Hotline: 09611904904 (9 AM to 8 PM)

Previous
Previous Product Image

অনেক আঁধার পেরিয়ে

Original price was: 299.00৳ .Current price is: 199.00৳ .
Next

সোনার তরী

Original price was: 399.00৳ .Current price is: 250.00৳ .
Next Product Image

গল্পগুচ্ছ

Original price was: 299.00৳ .Current price is: 200.00৳ .

ছায়া-সুনিবিড়

সেই কবেকার কথা। গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে তখন কেবল দুপুর গড়িয়েছে। নিস্তব্ধ দুপুরে বটগাছের পাতায় বাতাসের যেটুকু হাহাকার শোনা যায়, তার চেয়েও বেশি নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল বড়বাড়ির অন্দরমহলে।

কিরণবালা জানালার ধারে বসে সুপুরি কাটছিলেন। তার চোখের দৃষ্টি সুপুরির জাঁতির দিকে নয়, বরং বাইরের ধুধু মাঠের দিকে নিবদ্ধ। অদূরে পুকুরঘাটে কলসি কাঁখে নিয়ে নববধূর দল হাসাহাসি করছে, কিন্তু সেই হাসির প্রতিধ্বনি কিরণের কানে পৌঁছাচ্ছিল না।

হঠাৎ ঘরের কোণে ছায়ার সঞ্চার হলো। স্বামী নরেন্দ্রনাথ ভেতরে ঢুকে ধীরস্বরে বললেন, “শুনছো, কাল আমায় আবার শহরে ফিরতে হবে। কাজের চাপ খুব বেড়েছে।”

কিরণবালা জাঁতিটা সরিয়ে রাখলেন। কোনো প্রতিবাদ করলেন না, কারণ তিনি জানেন প্রতিবাদ কেবল দূরত্বই বাড়ায়, অধিকার ফেরাতে পারে না। তিনি শুধু বললেন, “শহরে তো তোমার কাজ আছে, আর এই গ্রামে আমার আছে তোমার ফেরার প্রতীক্ষা। দুটোর ওজন কি কখনো এক হয়?”

নরেন্দ্রনাথ জানতেন, এই প্রশ্নের কোনো যৌক্তিক উত্তর তার ঝুলিতে নেই। তিনি জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখলেন, বিকেলের মরা রোদে বটের ছায়া দীর্ঘ হতে হতে যেন সারা গ্রামকে গ্রাস করতে চাইছে। ঠিক যেমন নিরব অভিমান গ্রাস করে নিচ্ছে তাদের দীর্ঘ দাম্পত্যকে।


গল্পের মূল বৈশিষ্ট্য:

  • প্রকৃতি ও মন: রবীন্দ্রনাথের গল্পের মতো এখানেও মানুষের মনের অবস্থার সাথে বাইরের প্রকৃতির (দুপুর, বটের ছায়া, মরা রোদ) মিল দেখানো হয়েছে।

  • অব্যক্ত বেদনা: বাঙালি নারীর চিরন্তন ধৈর্য এবং মৃদু অভিমান এখানে ফুটে উঠেছে।

  • সহজ ভাষা: সাধু ও চলিত ভাষার একটি পরিমিত মিশ্রণ রাখা হয়েছে যাতে ‘গল্পগুচ্ছ’-এর আবহ তৈরি হয়।

Description

ছায়া-সুনিবিড়

সেই কবেকার কথা। গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে তখন কেবল দুপুর গড়িয়েছে। নিস্তব্ধ দুপুরে বটগাছের পাতায় বাতাসের যেটুকু হাহাকার শোনা যায়, তার চেয়েও বেশি নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল বড়বাড়ির অন্দরমহলে।

কিরণবালা জানালার ধারে বসে সুপুরি কাটছিলেন। তার চোখের দৃষ্টি সুপুরির জাঁতির দিকে নয়, বরং বাইরের ধুধু মাঠের দিকে নিবদ্ধ। অদূরে পুকুরঘাটে কলসি কাঁখে নিয়ে নববধূর দল হাসাহাসি করছে, কিন্তু সেই হাসির প্রতিধ্বনি কিরণের কানে পৌঁছাচ্ছিল না।

হঠাৎ ঘরের কোণে ছায়ার সঞ্চার হলো। স্বামী নরেন্দ্রনাথ ভেতরে ঢুকে ধীরস্বরে বললেন, “শুনছো, কাল আমায় আবার শহরে ফিরতে হবে। কাজের চাপ খুব বেড়েছে।”

কিরণবালা জাঁতিটা সরিয়ে রাখলেন। কোনো প্রতিবাদ করলেন না, কারণ তিনি জানেন প্রতিবাদ কেবল দূরত্বই বাড়ায়, অধিকার ফেরাতে পারে না। তিনি শুধু বললেন, “শহরে তো তোমার কাজ আছে, আর এই গ্রামে আমার আছে তোমার ফেরার প্রতীক্ষা। দুটোর ওজন কি কখনো এক হয়?”

নরেন্দ্রনাথ জানতেন, এই প্রশ্নের কোনো যৌক্তিক উত্তর তার ঝুলিতে নেই। তিনি জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখলেন, বিকেলের মরা রোদে বটের ছায়া দীর্ঘ হতে হতে যেন সারা গ্রামকে গ্রাস করতে চাইছে। ঠিক যেমন নিরব অভিমান গ্রাস করে নিচ্ছে তাদের দীর্ঘ দাম্পত্যকে।


গল্পের মূল বৈশিষ্ট্য:

  • প্রকৃতি ও মন: রবীন্দ্রনাথের গল্পের মতো এখানেও মানুষের মনের অবস্থার সাথে বাইরের প্রকৃতির (দুপুর, বটের ছায়া, মরা রোদ) মিল দেখানো হয়েছে।

  • অব্যক্ত বেদনা: বাঙালি নারীর চিরন্তন ধৈর্য এবং মৃদু অভিমান এখানে ফুটে উঠেছে।

  • সহজ ভাষা: সাধু ও চলিত ভাষার একটি পরিমিত মিশ্রণ রাখা হয়েছে যাতে ‘গল্পগুচ্ছ’-এর আবহ তৈরি হয়।

Reviews

There are no reviews yet.

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.