Hotline: 09611904904 (9 AM to 8 PM)

Previous
Previous Product Image

যদ্যপি আমার গুরু

Next

কবি তার কবিতার (হার্ডকভার)

Price range: 100.00৳  through 280.00৳ 
Next Product Image

Chokher Bali( চোখের বালি) by Rabindranath Tagore – Book – Book

Original price was: 350.00৳ .Current price is: 199.00৳ .

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের সেই চিরচেনা জটিল মনস্তত্ত্ব এবং মহেন্দ্র, আশালতা ও বিনোদিনীর মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে একটি বিশেষ অংশ নিচে দেওয়া হলো। এখানে বিনোদিনীর সেই তীক্ষ্ণ অথচ বিষণ্ণ অভিমানকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে:


অস্তমিত বসন্ত

বিনোদিনী আজ ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিল গোধূলির ম্লান আলোর দিকে। পাশের ঘরেই মহেন্দ্র আর আশার চাপা হাসির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সেই হাসির প্রতিটি তরঙ্গ বিনোদিনীর কানে তপ্ত সীসার মতো এসে বিঁধছে।

সেদিন ছিল পূর্ণিমা। বারান্দার এক কোণে দাঁড়িয়ে বিনোদিনী ভাবছিল— বিধাতা তাকে রূপ দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন, কিন্তু সেই রূপ আর বুদ্ধিকে আগলে রাখার মতো কোনো নীড় দেননি।

হঠাৎ মহেন্দ্র সেখানে এসে দাঁড়ালো। তার চোখে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। সে ধীর গলায় ডাকল, “বিনোদ!”

বিনোদিনী না ফিরেই ম্লান হাসল। সেই হাসিতে বিদ্রূপ ছিল না, ছিল কেবল হাহাকার। সে বলল, “কেন এসেছো ঠাকুরপো? হাসির মেলা তো পাশের ঘরে বসেছে। এ ঘরে তো কেবল ধুলো আর দীর্ঘশ্বাস।”

মহেন্দ্র অপরাধীর মতো একটু ইতস্তত করে বলল, “বিনোদ, তুমি কেন নিজেকে এমন করে সরিয়ে রাখো? তুমি তো জানো, এ বাড়ির সবার মাঝখানে থেকেও তুমি কতোটা আলাদা।”

বিনোদিনী এবার ঘুরে দাঁড়ালো। তার চোখের দৃষ্টি আগুনের মতো জ্বলে উঠল। সে তীক্ষ্ণ স্বরে বলল:

“আমি আলাদা নই মহেন্দ্র, আমি তোমাদের সাজানো বাগানের সেই আগাছা, যাকে উপড়ে ফেলতেও মায়া হয়, আবার চারা দিতেও ভয় লাগে। আশালতা তোমার ঘর, আর আমি তোমার চোখের বালি। ঘরকে ভালোবাসা সহজ, কিন্তু চোখের বালিকে কি কেউ সহজে সহ্য করতে পারে?”

মহেন্দ্র কোনো উত্তর দিতে পারল না। জানালার বাইরে বাতাস তখন আমের মুকুলের গন্ধ নিয়ে আসছে, কিন্তু বিনোদিনীর অন্তরে তখন কেবল শরতের শেষ ঝরা পাতার শব্দ।


লেখার বিশেষ দিক:

  • মানসিক দ্বন্দ্ব: এখানে মহেন্দ্রর দোদুল্যমানতা এবং বিনোদিনীর প্রখর ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরা হয়েছে।

  • রূপক ব্যবহার: ‘আগাছা’ এবং ‘চোখের বালি’ শব্দের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কের জটিলতাকে বর্ণনা করা হয়েছে।

  • পরিবেশ: সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশের বিপরীতে চরিত্রের মনের উত্তাল অবস্থাকে দেখানো হয়েছে।

Out of stock

Category:

Description

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের সেই চিরচেনা জটিল মনস্তত্ত্ব এবং মহেন্দ্র, আশালতা ও বিনোদিনীর মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে একটি বিশেষ অংশ নিচে দেওয়া হলো। এখানে বিনোদিনীর সেই তীক্ষ্ণ অথচ বিষণ্ণ অভিমানকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে:


অস্তমিত বসন্ত

বিনোদিনী আজ ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিল গোধূলির ম্লান আলোর দিকে। পাশের ঘরেই মহেন্দ্র আর আশার চাপা হাসির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সেই হাসির প্রতিটি তরঙ্গ বিনোদিনীর কানে তপ্ত সীসার মতো এসে বিঁধছে।

সেদিন ছিল পূর্ণিমা। বারান্দার এক কোণে দাঁড়িয়ে বিনোদিনী ভাবছিল— বিধাতা তাকে রূপ দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন, কিন্তু সেই রূপ আর বুদ্ধিকে আগলে রাখার মতো কোনো নীড় দেননি।

হঠাৎ মহেন্দ্র সেখানে এসে দাঁড়ালো। তার চোখে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। সে ধীর গলায় ডাকল, “বিনোদ!”

বিনোদিনী না ফিরেই ম্লান হাসল। সেই হাসিতে বিদ্রূপ ছিল না, ছিল কেবল হাহাকার। সে বলল, “কেন এসেছো ঠাকুরপো? হাসির মেলা তো পাশের ঘরে বসেছে। এ ঘরে তো কেবল ধুলো আর দীর্ঘশ্বাস।”

মহেন্দ্র অপরাধীর মতো একটু ইতস্তত করে বলল, “বিনোদ, তুমি কেন নিজেকে এমন করে সরিয়ে রাখো? তুমি তো জানো, এ বাড়ির সবার মাঝখানে থেকেও তুমি কতোটা আলাদা।”

বিনোদিনী এবার ঘুরে দাঁড়ালো। তার চোখের দৃষ্টি আগুনের মতো জ্বলে উঠল। সে তীক্ষ্ণ স্বরে বলল:

“আমি আলাদা নই মহেন্দ্র, আমি তোমাদের সাজানো বাগানের সেই আগাছা, যাকে উপড়ে ফেলতেও মায়া হয়, আবার চারা দিতেও ভয় লাগে। আশালতা তোমার ঘর, আর আমি তোমার চোখের বালি। ঘরকে ভালোবাসা সহজ, কিন্তু চোখের বালিকে কি কেউ সহজে সহ্য করতে পারে?”

মহেন্দ্র কোনো উত্তর দিতে পারল না। জানালার বাইরে বাতাস তখন আমের মুকুলের গন্ধ নিয়ে আসছে, কিন্তু বিনোদিনীর অন্তরে তখন কেবল শরতের শেষ ঝরা পাতার শব্দ।


লেখার বিশেষ দিক:

  • মানসিক দ্বন্দ্ব: এখানে মহেন্দ্রর দোদুল্যমানতা এবং বিনোদিনীর প্রখর ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরা হয়েছে।

  • রূপক ব্যবহার: ‘আগাছা’ এবং ‘চোখের বালি’ শব্দের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কের জটিলতাকে বর্ণনা করা হয়েছে।

  • পরিবেশ: সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশের বিপরীতে চরিত্রের মনের উত্তাল অবস্থাকে দেখানো হয়েছে।

Reviews

There are no reviews yet.

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.